ঢাকা চেম্বারের সেমিনার

কেমিক্যাল আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে চার দফা প্রস্তাব

বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্প খাতের অসামান্য প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও মৌলিক রাসায়নিকের জন্য চরম বিদেশী নির্ভরতা জাতীয় অর্থনৈতিক ঝুঁকির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বর্তমানে কেবল কেমিক্যাল আমদানিতেই বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট জাতীয় আমদানির প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশের সার্বিক শিল্প খাতের টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কেমিক্যাল আমদানির বিশাল ব্যয় কমিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে নীতিসংস্কারসহ চার দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।

গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এ প্রস্তাব ও সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রব্বানী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

সেমিনারের নির্ধারিত বক্তৃতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম মোসাদ্দেক হোসেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) পরিচালক ড. মো. আক্তার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইয়াসমিন নাহার জলি, বাংলাদেশ এগ্রো-কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (শুল্ক, রফতানি ও বন্ড) সুরাইয়া সুলতানা, বিজিএমইএর পরিচালক শেখ এইচএম মোস্তাফিজ, বিকেএমইএর পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং ডাইস্টার সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার মো. মাজাহারুল ইসলাম সুমন প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

প্রবন্ধে কেমিক্যাল বাজার কাঙ্ক্ষিত বিকাশ না হওয়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে—উল্টো শুল্ক কাঠামো (ইনভার্টেড ট্যারিফ), কাস্টমসে এইচএস কোড শ্রেণীবিন্যাসের জটিলতা এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউজের অপব্যবহার। পাশাপাশি বিপজ্জনক পণ্য ওয়্যারহাউজ, মানসম্মত টেস্টিং ল্যাব এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের অপর্যাপ্ততা শিল্পটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে। তবে একটি আধুনিক কেমিক্যাল অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে উৎপাদকদের খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এ অবস্থা থেকে উত্তরণে এবং বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে প্রস্তাবিত চার দফা রোডম্যাপে প্রথমত উল্টো শুল্ক কাঠামো কমানো, এইচএস কোড সামঞ্জস্য করা এবং বন্ডেড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে নীতিসংস্কারের দাবি জানানো হয়। দ্বিতীয়ত, ডিজি ওয়্যারহাউজ, কেমিক্যাল এসইজেড ও আন্তর্জাতিক মানের টেস্টিং ল্যাব স্থাপনসহ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের তাগিদ দেয়া হয়। তৃতীয়ত, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করতে সিঙ্গেল উইন্ডো লাইসেন্সিং চালু ও পূর্ণাঙ্গ ‘জাতীয় কেমিক্যাল নীতি’ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। চতুর্থত, এপিআই গবেষণা, গ্রিন কেমিস্ট্রি চর্চা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, আমদানিনির্ভরতা, শুল্ক জটিলতা, পরিবেশগত অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা শিল্পের প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর রোডম্যাপের আহ্বান জানান।

মো. সলিম উল্লাহ বলেন, ‘কেমিক্যালনির্ভর ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার ও সহায়তা নিশ্চিত করতে শিল্প মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সুপারিশ জাতীয় শিল্পনীতি ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেবে।’

আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বলেন, ‘চামড়া শিল্পে ব্যবহারের জন্য নতুন কেমিক্যাল উদ্ভাবন করা হয়েছে।’ তিনি প্রযুক্তি স্থানান্তর, গবেষণার ফল শিল্পে প্রয়োগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

আরও